মূল রচনা: হরিশঙ্কর পরসাই
অনুবাদ: পার্থসারথি পাণ্ডা
পুলিশের অত্যাচারে উৎপাতে কোন এক দেশের লোক একবার বেজায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠল। শেষমেশ তারা এমন ক্ষেপে উঠল যে, সবাই মিলে ঠিক করল এর একটা প্রতিবাদ জানাতেই হবে। প্রতিবাদ জানাতে পোড়াতে হবে পুলিশমন্ত্রীর কুশপুতুল।
তড়িঘড়ি একটা কুশপুতুল বানানোও হয়ে গেল। যতটা বিচ্ছিরি এবং বীভৎস করা যায়, ততটাই করা হল। কিন্তু সেই পুতুলে আগুন দেবার আগেই অঘটনটা ঘটে গেল। পুলিশ দুম করে ১৪৪ ধারা জারি করে দিলো। কুশপুতুলটিও বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে চলে গেল।
এতে অবশ্য ঝামেলায় পড়ে গেল পুলিশই, কিছুতেই আর তারা ঠিক করতে পারে না পুতুলটা নিয়ে করবে কি!
তখন তারা তাদের বড়বাবুকে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, পুতুলটা জায়গা আটকে কদ্দিন আর পড়ে থাকবে, স্যার? আপনি বলেন তো, এটা পুড়িয়ে ফেলি, ল্যাঠা চুকে যাক! কি বলেন স্যার?
বড়বাবু চোখ কপালে তুলে বললেন, সব্বোনাশ! বল কি হে, পুলিশমন্ত্রীর কুশপুতুল পোড়াব আমরা! ভাবলে কি করে! চাকরিটা থাকবে?
থানার বড়বাবু, মেজবাবু, ছোটবাবু, কনস্টেবল, হাবিলদার সবাই যখন কুশপুতুলটার কি গতি হবে তাই ভেবে থই পাচ্ছেন না, তখনই এসে গেল দশেরা পার্বণ। অমনি এক পুলিশ কর্তার ‘ব্রেনওয়েব’ চালু হয়ে গেল। তিনি ডেকে আনলেন রামলীলাওয়ালাদের। তাদের পুতুলটার কাছে নিয়ে গিয়ে বললেন, হ্যাঁ হে, দশেরায় পোড়ানোর জন্য তোমাদের রাবণ তো একখানা চাই। চাই তো? থানা থেকে এই পুতুলটা নিয়ে যাও। এটা তো রাবণের মতোই দেখতে । অবশ্য এতে ন’টা মাথা কম আছে, লাগিয়ে নিও কেমন!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news