
দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়
দু’দিন আগে তৃণমূলের (AITMC) নেতা-কর্মীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি ভাইরাল করার চেষ্টা করছিলেন। ছবিটি বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) আর শুভেন্দু অধিকারীর (Shubhendu Adhikari)।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দিলীপ ঘোষ একটি সিংহাসনসম বৃহৎ কাউচে পায়ের ওপর পা তুলে বসে আছেন আর তাঁর পাশে একটি সাধারণ চেয়ারে বসে আছেন শুভেন্দু। উল্লেখ্য, শুভেন্দু যে দিকে বসেছিলেন দিলীপ ঘোষ সেই দিকেই পা তুলে বসেছিলেন।
ছবি অনেক কিছু প্রমাণ করলেও সব কিছু প্রমাণ করে না। দিলীপ ঘোষ হয়ত মুহুর্তের জন্য শুভেন্দুর দিকে পা তুলে বসেছিলেন, হয়ত সেই মুহুর্তেই কোনও বুদ্ধিমান চিত্র সাংবাদিক সেই মুহুর্ত টি লেন্সবন্দি করেছিলেন। আবার এমনও হতে পারে দিলীপ ঘোষ সচেতন ভাবে এমনটা করেন নি। ন্যূনতম ভদ্রতায় এমনটা করার কথাও নয়। তবু ছবিটি একশ্রেনীর মানুষের কাছে প্রতীকি হয়ে উঠেছে। শুধুমাত্র তৃণমূলের সাধারণ কর্মী-সমর্থক নয়। রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ, অধুনা তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষও এই ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করে ক্যাপসান দিয়েছিলেন, ‘সম্মান’।

বৃহস্পতিবার কাঁথিতে প্রথমে রোড শো এবং পরে ভাষণপর্বে শুভেন্দু বোঝালেন যে স্বর্ণআসন হলেই সিংহাসন হয় না। প্রকৃত রাজা যদি কুশের আসনেও বসেন সেটিই আসল সিংহাসন।
শুভেন্দু বোঝালেন, তাঁর রাজনৈতিক প্রতিভা আর পাঁচটা বামন রাজনীতিকের মত নয়। তাই তাঁর রাজনৈতিক সম্ভাবনাটাও ব্যাপকতর এবং সম্ভবত সেই জন্যই তাঁকে সাংসদ, বিধায়ক বা মাঝারি মন্ত্রীত্বের বেড়ায় বেঁধে রাখা যায় না।
এদিন শুভেন্দু সৌগত রায় কে ভদ্রভাবে সব কথাই বলেছেন। প্রধানত যে তিনজন নেতা কে মমতা শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ব্যবহার করছেন অর্থাৎ সৌগত, ফিরহাদ আর কল্যাণ, এঁদের তিনজনেরই নন্দীগ্রাম বা শুভেন্দুকে নিয়ে কথা বলা মানায় কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার অবকাশ আছে।
গতকাল অর্থাৎ বুধবারের কাঁথির সভায় নন্দীগ্রামের গুলিচালনার তারিখ বলতে গিয়ে ‘সম্ভবত ১৪ ই মার্চ’ বলা বুঝিয়ে দিয়েছে সৌগতর এক্তিয়ারের সীমানা।
ফিরহাদ হাকিম নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় দলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন না। তিনি ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামে যানও নি। গেছিলেন মুকুল রায়, শোভন চট্টোপাধ্যায়রা।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সিঙ্গুর আন্দোলনে অনেক বেশি সক্রিয় ছিলেন। যদিও টাটা-র বিরুদ্ধে মমতার লড়াই যখন চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, মমতা যখন টাটা বয়কটের ডাক দিয়েছেন, তখন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় টাটা-র পক্ষে একটি মামলা লড়ছিলেন। জিজ্ঞাসা করলে বলতেন ওটা ওঁর পেশা।
পেশা আর কৃষক আন্দোলন কে ব্যালেন্স করে চলা, ভাবের ঘরে চুরি করা নেতার কোনও তুলনাই চলে কি শুভেন্দুর সঙ্গে?
শুভেন্দু এঁদের হালকা চালে দু-এক কথা বলে মোক্ষম আঘাত টি হেনেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর। আঘাতের স্টাইল টা অবশ্য মমতার!
একটা সময় ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গৌতম দেব বা লক্ষণ শেঠের কোনও বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলে তিনি বলতেন, ‘আমার কোনও ব্লক সভাপতি কে জিজ্ঞাসা করুন।’ ভাব টা এমন গৌতম বা লক্ষণরা সিপিএমের যত বড় নেতাই হোন না কেন, তাঁরা তাঁর ব্লক সভাপতির সমকক্ষ।
এদিন একই কাণ্ড ঘটালেন শুভেন্দু। বললেন, মুখ্যমন্ত্রীর সভার কাউন্টার করতে তাঁর সহকর্মীরাই যথেষ্ট। পরে অবশ্য বলেছেন, ৭ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী নন্দীগ্রামে সভা করার পর ৮ তারিখেই তিনি জবাব দেবেন।
এই সব কিছু ব্যতিরেকে, একুশের যুদ্ধের সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি আঙ্গিক এদিন শুভেন্দু তুলে ধরেছেন। বলেছেন, লড়াই টা তো দক্ষিণ কলকাতার চার পাঁচজনের সঙ্গে গোটা বাংলার।
শুভেন্দু বিলক্ষণ জানেন, এই ক্ষোভ তৃণমূলের সব বিধায়কের কমন ফ্যাক্টর। রাজ্যের ভালোমন্দের সিদ্ধান্ত দক্ষিণ কলকাতার কয়েকজনের কাছে কুক্ষিগত থাকা খুব স্বাভাবিক কারনেই বাকিদের ক্ষোভের কারণ।
তৃণমূলের মহাভাঙ্গনের দোরগোড়ায়, বিধায়কদের এই কমন ক্ষোভ টি এদিন উসকে দিলেন শুভেন্দু।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news