পার্থসারথি পাণ্ডা
নবদ্বীপের অধিপতি কৃষ্ণনাগরিক মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় ছিলেন ঘোর শাক্ত। কিংবদন্তী অনুসারে তিনি যেমন শারদীয়া দুর্গা পুজোর প্রসার ঘটিয়েছিলেন, তেমনি হৈমন্তী কালী পুজোর প্রসারও ঘটে তাঁরই হাতে। তাঁর আগে তান্ত্রিকদের মধ্যে দেবী কালিকার বিভিন্নরূপের উপাসনার প্রচলন থাকলেও, তা ছিল অত্যন্ত গুহ্য বা গোপনীয়, সাধরণের মধ্যে তেমন প্রচলন ছিল না। তান্ত্রিক গ্রন্থ রচয়িতা কাশীনাথ আঠেরো শতকে তাঁর ‘কালীসপর্যা’ গ্রন্থে প্রথম সর্বসাধারণ কেন কালীর পুজো করছেন না, এই ধরণের সওয়াল তোলেন। এর আগে কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ ‘তন্ত্রসার’ রচনা করে তাতে কালীর নানান রূপের উপাসনা ও পূজাপদ্ধতির কথা তুলে ধরেছিলেন এবং নিজে দেবীর মৃন্ময়ী মূর্তি নির্মাণ করে পুজো করেই ক্ষান্ত ছিলেন। তাঁরও আগে অনেকেই কালীপুজো পদ্ধতি নিয়ে পুঁথি লিখেছেন। কিন্তু কাশীনাথই সর্বপ্রথম সাধারণের মধ্যে কালী পুজোর প্রসার ঘটানোর প্রসঙ্গ তুলে সেসময়ে বেশ আলোড়ন তুলেছিলেন। এরকমই এক সন্ধিক্ষণে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র নাকি আদেশ জারি করেছিলেন যে, তাঁর প্রজাদের সবাইকেই দেবী কালীর উপাসনা করতে হবে, যিনি সেটা করবেন না তাকে চরম শাস্তি পেতে হবে। এই আদেশ জারি করার পর থেকেই মহারাজের তালুকজুড়ে প্রতি বৎসর প্রায় দশ হাজার কালী মূর্তির পুজো শুরু হল। এমনি করে পুজোর ধারা চলতে চলতে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের আমল পেরিয়ে তাঁর নাতি ঈশানচন্দ্রের আমলে এসে কালী আরাধনার আরও প্রসার যেমন হল, তেমনি তা হয়ে উঠল জাঁকজমক ও আড়ম্বরে পরিপূর্ণ। শোনা যায়, ঈশানচন্দ্রের আমলে দেবীকে নিবেদন করা শুরু হল—কয়েক হাজার মণ নৈবেদ্য, কয়েক হাজার মণ কাপড়, প্রভূত অলঙ্কার এবং আর সমস্ত উপচার। ফলে, দেবীর পূজার সাথে সাথে জাঁকজমকের প্রসারের সূচনাও হয়েছিল কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি থেকেই।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news