পার্থসারথি পাণ্ডা
রবীন্দ্রনাথ তখন শান্তিনিকেতনে সবার কাছেই ‘গুরুদেব’। অনেকেই চাইতেন তার পদসেবা করতে, কিন্তু সবার সেবা রবীন্দ্রনাথ নিতে চাইতেন না। তার সেবা করার অধিকার তারাই পেতেন যাদের হাত খুব নরম আর ঠাট্টা করলে যে বুঝতে পারে। দুখের কথা, এই দুটো গুণ একসঙ্গে বেশিরভাগ মানুষেরই থাকে না। সেবার বেলায় যার এত বাছবিচার, খাবার বেলায় সেসবের বালাই নেই। মেয়েদের সঙ্গে আলাপ হলেই দুএকটি কথার পরেই জিজ্ঞেস করতেন, তুমি রান্না করতে জানো? একবার পুব বাংলার একটি বউয়ের সঙ্গে আলাপ হতেই জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা, তুমি চই দিয়ে কই মাছ রাঁধতে জানো?
বউটি কথাটা ঠিক বুঝতে পারল না। বলল, চই আবার কি?
রবীন্দ্রনাথ বললেন, ওমা, চই জানো না? চই হল এক ধরণের গাছের শেকড়। আমার মামাবাড়ি শ্বশুরবাড়ি দুইই তো পুব বাংলায়, সেখানকার মেয়ের হাতেই খেয়েছি চই দিয়ে কই মাছ্। আহা, কী স্বাদ।
শান্তিনিকেতনের সবাই জানতেন রবীন্দ্রনাথ নানারকমের খাদ্যপ্রীতির কথা। তাই একবার জন্মদিনে কবির জন্য নানারকমের খাবার বানালেন অনেকেই। জন্মদিনের ধুতি পাঞ্জাবী পরে কবি যখন খাবার টেবিলে বসলেন, তখন টেবিল নানারকমের প্লেটে নানারকমের পদে ভরা। তাই দেখে কবির ভারি আনন্দ হল। জেনে নিলেন, কে কোন পদটি রান্না করেছেন। সবাই আগ্রহ নিয়ে দাঁড়িয়ে তাদের রান্না কবির কেমন লাগল জানার জন্য। কবি বললেন, এত খাবার তো খেতে পারব না, তবে সবার খাবারই একটু একটু করে খাব। সেদিন ডাক্তার শচীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী কবির জন্য বানিয়েছিলেন একটি অভিনব পদ ‘কুমড়োর জেলি’। রবীন্দ্রনাথ এই প্রথমবার খেয়েছিলেন এমন পদ। বোধহয় এই শেষবারও বটে। কারণ, জিনিসটা খেয়ে রবীন্দ্রনাথের তেমন ভালো লাগেনি। অবশ্য মুখে বলেননি সেকথা। শুধু বলেছিলেন, ‘ভালোই’।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news