ভাস্কর মান্না:
বিজেপির অভিজ্ঞতা কম তাই যেই আসনটি জিতেছে, সেই আসনটি ধরে রাখতে পারেনি। সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটাই বললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
রাজ্যের তিনটি উপনির্বাচনের মধ্যে একটিতেও বিজেপি জেতেনি। ৬ মাস আগে লোকসভা নির্বাচনে কালিয়াগঞ্জ ও খড়গপুর সদরে বিজেপি এগিয়ে থাকলেও, এই উপনির্বাচনে ওই দুটি আসনে ভরাডুবি হয়েছে বিজেপির। যা নিয়ে প্রবল সমালোচনা শুরু হয়েছে বিজেপির অন্দরে। এ নিয়ে শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে দিলীপ ঘোষ বলেন, “রাজ্যে বিজেপির অভিজ্ঞতা কম। তাই যেই আসনটি জিতেছে সেটি ধরে রাখতে পারেনি।” দিলীপের এই মন্তব্যকে ঘিরে প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে। দিলীপ ঘোষ কী এই মন্তব্য করলেন শুধুমাত্র নিজের ঘনিষ্ঠদের নিয়েই?
কারণ যে দলে কৈলাস বিজয়বর্গীয়, মুকুল রায় ও রাহুল সিনহার মতো অভিজ্ঞ নেতা আছেন, সেইখানে অভিজ্ঞতা কম বলে, আসলে দিলীপ তাঁদের সঙ্গে দূরত্বটাই বজায় রাখলেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মমতা-মুকুল জুটির সাহায্যেই ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল। চলতি লোকসভা নির্বাচনে মুকুলের হাত ধরেই তৃণমূলে ভাঙন শুরু হয়। আর তারই ফলস্বরূপ তৃণমূলকে সমান টক্কর দিয়ে এক লাফে ১৮টি আসন জেতে বিজেপি। অথচ সেই মুকুলকে হাতে পেয়েও ঠিকমতো কাজে লাগায়নি বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। আর তারই মাশুল দিতে হল বিজেপিকে।
কালিয়াগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী এই হারের জন্য এনআরসিকেই দায়ী করেছেন। যা স্বীকার করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, “এনআরসির জন্য বিজেপি হেরেছে এই ব্যাখ্যা পুরোপুরি ঠিক নয়। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এনআরসি নিয়ে মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করেছে। আর এ নিয়ে মানুষকে ঠিক বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি।” অন্যদিকে খড়গপুরে এনআরসি কোনও প্রভাব পড়েনি। তারপরেও এই আসনে হার নিয়ে বিজেপি সভাপতি ব্যাখ্যা, খড়গপুরে বিকেল সাড়ে পাঁচটার পর প্রচুর ছাপ্পা ভোট দিয়েছে তৃণমূল। আর তার ফলেই জয় লাভ করছে। তবে তিনটি আসনে যে কারণেই হার হোক। তা নিয়ে কাঁটাছেঁড়া শুরু করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, নির্বাচনে হারের কারণ নিয়ে আজ বৈঠকে বসতে চলেছে বিজেপি নেতৃত্ব।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news