Breaking News
Home / TRENDING / শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে ৯ জনের মৃত্যুতে দেশজুড়ে উদ্বেগের সঙ্গে সমালোচনাও

শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে ৯ জনের মৃত্যুতে দেশজুড়ে উদ্বেগের সঙ্গে সমালোচনাও

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।

শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনের (Sharamik Special Train) যাত্রীদের মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ফলে উদ্বেগ বেড়েছে সর্বস্তরের প্রশাসনে। গত ২৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করে দেন। তারপর ধীরে ধীরে চার দফায় বেড়েছে লকডাউনের মেয়াদ। এই সময় কর্মহীন হয়ে লাখো লাখো পরিযায়ী শ্রমিক নিজ নিজ রাজ্যের দিকে পায়ে হেঁটে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে বিপত্তি ঘটে কেউ বা ট্রেনে চাপা পড়েছেন, কেউ বলি হয়েছেন লরির ধাক্কার। আবার প্রাণ হারিয়েছেন ক্ষুধার জ্বালায়।

এমতাবস্থায় শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন চালিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরানোর বন্দোবস্ত করেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও রেল মন্ত্রক। মাঝে রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন চালানো হচ্ছিল। তাতেও পরিযায়ী শ্রমিকদের (Migrent Labour) পায়ে হেঁটে ফেরানোর পথ থেকে সরাতে পারেনি সরকার, অগত্যা রাজ্য সরকারগুলির অনুমতিকে সরিয়ে দিয়ে ঢালাও শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন চালানো শুরু করে রেল মন্ত্রণালয়। কিন্তু, গত কয়েক দিনে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনেই ৯ জন শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা নজর টেনেছে গোটা দেশের।

সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে বিহারের মুজাফফরপুরে। চলতি সপ্তাহেই গুজরাট থেকে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনের আঘাতে এক মহিলা শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে ট্রেনেই। মুজাফফরপুর স্টেশনে দেড় বছরের একটি শিশু তাঁর মৃত মায়ের শাড়ী ধরে টানছে তাঁকে জাগানোর উদ্দেশ্যে। সেই ভিডিওটি ভাইরাল হয় গোটা দেশে। নেটদুনিয়া ভিডিওটি দেখে চোখের জল ফেলেছে, সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছে কিভাবে পরিযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে দেশের সরকার ? কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রণালয়েরও সমালোচনা শুরু হয় দেশজুড়ে। গত সোমবার থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে স্পেশাল ট্রেনে।

কারণ প্রসঙ্গে জানা গিয়েছে, ননএসি ট্রেনে অত্যাধিক গরম, শরীরে জল শূন্যতা ও ক্ষুধার জ্বালায় মৃত্যু হয়েছে একাধিক শ্রমিকের। শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন যেদিন থেকে চালানো শুরু হয়েছে, দিন থেকেই অভিযোগ উঠেছে খাবারের বন্দোবস্ত ছাড়াই ট্রেনে তুলে দেওয়া হচ্ছে শ্রমিকদের। পানীয় জলের বন্দোবস্ত থাকছে না ট্রেনে। ফলে বেঘোরে প্রাণ যাচ্ছে পরিযায়ী শ্রমিকদের। এর পিছনে আরও একটি কারণ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অত্যাধিক শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন চালানোর ফলে রেলপথেও ট্রাফিক জ্যাম দেখা দিচ্ছে। যেই কারনে হয় পথেই আটকে পড়েছে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন গুলি, নতুবা লম্বা পথ ধরে পৌঁছতে হচ্ছে গন্তব্যে।

এমন পরিস্থিতিতে পানীয় জলের অভাব ও নন এসি ট্রেনে অত্যাধিক গরমের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শ্রমিকরা। কেউ কেউ প্রাণ হারাচ্ছেন। শ্রমিকদের মৃত্যু নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। পরস্পরকে দোষারোপ করে শ্রমিক মৃত্যুর দায় থেকে পরিত্রান পেতে চাইছে দু’পক্ষই।

Spread the love

Check Also

গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব চরমে, বিজেপির দিকে পা বাড়িয়ে রাজীব, ইঙ্গিতে বললেন অরূপ

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো। মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির দিকে পা বাড়িয়ে আছে? এমন একটি গুঞ্জন বেশ …

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের থাবা পূর্ব রেলে : আক্রান্ত শিয়ালদহ ডিআরএম অফিসের কর্মী

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো। করোনা ভাইরাসের (Coronavirus) সংক্রমনের থাবা ধরা পড়ল পূর্ব রেলে (Eastern Railway)। শনিবার …

করোনা মোকাবিলায় কলকাতায় বাড়ল কনটেইনমেন্ট জোনের সংখ্যা

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো। কলকাতা সহ রাজ্যে কনটেইনমেন্ট জোনের সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেল। কলকাতা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!