Breaking News
Home / TRENDING / বিধায়কদের প্রশ্নে‌ কাঁচি পরিষদীয় মন্ত্রীর ! ক্ষোভ তৃণমূল বিধায়কদের

বিধায়কদের প্রশ্নে‌ কাঁচি পরিষদীয় মন্ত্রীর ! ক্ষোভ তৃণমূল বিধায়কদের

সূর্য সরকার।

এ যেন হীরক-দেশ ! সত্যজিতের ‘স্যাটায়ার’ বাস্তবের মাটিতে। সিংহাসনে রাজামশাই। গায়ক, চাষী, ক্ষেতমজুর, শিক্ষক‌ কিংবা খনি শ্রমিক—রাজ দরবারে যেই হাজির হোন না কেন ! অভাব-অভিযোগ নৈব নৈব চ। বলতে হবে সব ভালো চলছে। রাজ দরবারে ‘পন্ডিত’ রচিত বুলি আওড়াতে হবে ছন্দ মেনে। রাজা যা শুনতে চান, তাই শোনাবে জনতা। বেগরবাই করলেই যন্তর মন্তরে মগজ-ধোলাই!

বাস্তবের হীরক রাজার দেশে অবশ্য যন্তর-মন্তর ঘর নেই। তবে ছন্দ মেনে না হলেও প্রশ্ন আছে। রয়েছে আম জনতার অভাব-অভিযোগও। কিন্তু বলতে মানা। রাজা যা শুনতে চাইছেন, বলতে হবে তেমনটাই। হাল আমলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা যেন হীরকের সেই সুখ-দরবার। সেখানে ‘রাজা’ও, আছে প্রশ্ন। তবে রাজ পন্ডিত এর জায়গায় রয়েছেন পরিষদীয় মন্ত্রী। যার অনুমতিক্রমে প্রশ্ন উঠবে রাজ দরবারে, থুড়ি বিধানসভা অধিবেশনে। ভূমিকা ভনিতা না করে এবার আসল ‘গল্প’ শোনা যাক। বিধানসভা সূত্রে খবর, প্রশ্নোত্তর পর্বে এবার থেকে আর বিধায়কদের ইচ্ছামত জমা করা প্রশ্ন থাকবে না তালিকায়। পরিষদীয় নিয়মানুযায়ী, বিধানসভা অধিবেশন চলার আগে সব দলের বিধায়কদের তরফেই বিধানসভা সচিবালয়ে​ প্রশ্নপত্র জমা করতে হয়। প্রত্যেক বিধায়ক নিজের এলাকার সমস্যা কিংবা সার্বিকভাবে বিভিন্ন দপ্তরের বিভিন্ন ক্ষেত্রের কাজকর্ম প্রশ্ন জমা করতে পারেন। কোন প্রশ্ন বিধানসভা অধিবেশনে উঠবে উঠবে না তা নির্ধারণ করার ক্ষমতা অধ্যক্ষের। এখনও ‘সরকারিভাবে’ তাই আছে। কিন্তু বিধানসভা সূত্রে খবর, জারি হয়েছে ‘অলিখিত’ নয়া নির্দেশিকা।

পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterji) নির্দেশ, এখন থেকে বিধানসভা অধিবেশনে কোন প্রশ্ন উঠবে উঠবে না তা ঠিক করবেন তিনি। তাঁকে না দেখিয়ে কোনও প্রশ্নই দেওয়া যাবে না তালিকায়। সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলা এমন কোন প্রশ্নই নিতে চায় না পরিষদীয় দপ্তর। যে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে নাকানি-চোবানি খেতে হয় দপ্তরওয়ারি মন্ত্রীদের। তাই এই ‘অলিখিত’ কার্যক্রম। প্রশ্নে কাঁচি অবশ্য বিরোধী-শাসক বিধায়ক উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। যা নিয়ে জোর গুঞ্জন রাজ্য বিধানসভায়। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই বাদ হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাঁর অপর দপ্তর শিক্ষা সংক্রান্ত এক অস্বস্তিকর প্রশ্নের ‘না’ করেছেন।

বিধানসভার ওই সূত্র বলছে, সোমবার রাজ্য বিধানসভার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের প্রশ্ন উত্তর পর্ব ছিল। সেখানে পার্শ্ব শিক্ষকদের স্থায়ীকরণ নিয়ে সরকারের কোনও ভাবনা চিন্তা আছে কিনা, এমন একটি প্রশ্ন জমা করেছিলেন ময়নাগুড়ির তৃণমূল (TMC) বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী। তালিকাতেই ঠাঁই মেলেনি সেই প্রশ্নের। অসন্তোষ রয়েছে বিধায়কের মধ্যে। তবে ‘রাজার হুকুম’, তাই মুখেও কুলুপ। স্বাভাবিকভাবেই, পরিষদীয় দপ্তরের প্রশ্নের কাঁচির সিদ্ধান্তে বড়োসড়ো প্রশ্নচিহ্ন তুলছেন বিধায়করা, যদিও তা চুপিসারে।

Spread the love

Check Also

সোজা কথা সিব্বালের, সিএএ অমান্য করার অধিকার কোনও রাজ্যের নেই

নিজস্ব সংবাদদাতা। কেরলের সাহিত্য সভায় উলটপুরাণের সিরিজ! ঐতিহাসিক রামচন্দ্র গুহ গাঁধি পরিবারের সমালোচনা করে ইতিমধ্যেই …

উত্তরবঙ্গের সঙ্গে জঙ্গলমহলে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিচ্ছে আবহাওয়া দফতর

সূর্য সরকার। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও কালিম্পং জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের …

বিকৃতমনস্ক শিক্ষামন্ত্রী ! রাজ্যপালের মন্তব্যের জবাবে তীব্র কটাক্ষ পার্থর

সূর্য সরকার। ফের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে (Jagdeep Dhankhar) কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল মহাসচিব পার্থ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *