Breaking News
Home / TRENDING / সংগঠন নিয়ে ক্ষোভ মুকুলের, জানতে পেরে ফোন শাহ ও নাড্ডার, শীঘ্রই বৈঠকের সম্ভাবনা

সংগঠন নিয়ে ক্ষোভ মুকুলের, জানতে পেরে ফোন শাহ ও নাড্ডার, শীঘ্রই বৈঠকের সম্ভাবনা

নীল রায় :

রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামো সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য শীঘ্রই দলের সিনিয়র নেতা মুকুল রায়ের সঙ্গে বসতে চলেছেন বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডা (JP Nadda) ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

গত এপ্রিল মাসে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সহ বিভিন্ন রাজ্য শাখায় রদবদলের কথা ছিল। সঙ্গে রদবদল হত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভাতেও। কিন্তু করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের ফলে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে সব কিছুই পিছিয়ে যায়। গত দুই মাস যাবৎ সেই সবকিছুই স্থগিত হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ শাখার কার্যকলাপ নিয়ে শীর্ষ বিজেপি (BJP) নেতৃত্ব একেবারেই খুশি নয় বলেও খবর বিজেপির অন্দরে।

গত কয়েক মাসে রদবদলের সম্ভাব্য তালিকা নিয়ে এ রাজ্যে সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল শীর্ষ নেতৃত্বের। তাঁদের কাছে রদবদলের তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়েছিল। সূত্রের খবর, বেশ কয়েকবার একই নামের তালিকা জমা পড়ায়, রাজ্যের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর নেতাদের ওপর ক্ষুব্ধ অমিত শাহ থেকে জে পি নাড্ডা সকলেই। জানা গিয়েছে, এ রাজ্যের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী নিজেদের শিবিরের ‘অযোগ্য’ নেতাদের রাজ্য কমিটিতে স্থান দিয়েছে বলে খবর ছিল শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে। কিন্তু অমিত শাহ চেয়েছিলেন, নতুন-পুরনো বিজেপি নেতৃত্বের সংমিশ্রণে সাংগঠনিকভাবে দক্ষ টিম গঠন করুক বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখা। গত কয়েক মাসের প্রয়াসে সেই চেষ্টা সফল হয়নি।

বিজেপি নেতা মুকুল রায় (Mukul Roy) চেয়েছিলেন, রাজ্যের ১০০টি পুরসভার নির্বাচনের আগে রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কমিটির গঠন হোক। তাহলে পুরভোটে সেই কমিটির সাংগঠনিক পরীক্ষা হয়ে যাবে। একই সঙ্গে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সাংগঠনিক ফাঁকফোকর গুলো প্রসঙ্গে জানা সম্ভব হবে। ফলে সেইসব শূন্যস্থান পূরণ করে ২১-এর ভোটে পূর্ণশক্তি দিয়ে ঝাঁপানো যাবে পশ্চিমবঙ্গ দখলের লক্ষ্যে। প্রসঙ্গত, সভাপতি হিসেবে শেষবার যখন পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসেছিলেন অমিত শাহ, তখনই ঘরোয়া বৈঠকে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, পুরভোট হোক বা বিধানসভা নির্বাচন, সবেতেই শিবিরের সেনাপতি হবেন মুকুল রায়।
সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ থেকে শুরু করে রাজ্য বিজেপির সমস্ত শীর্ষ নেতারা। রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) উপস্থিতিতেই এ কথা রাজ্য নেতাদের জানিয়েছিলেন অমিত শাহ (Amit Shah)। সূত্রের খবর, তারপর থেকেই রাজ্যের সাংগঠনিক রদবদল চেয়েছিলেন মুকুল। তারপর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও, সাংগঠনিক রদবদলের কোনও সম্ভাবনাই চোখে পড়েনি তাঁর। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে প্রাক্তন রেলমন্ত্রী নিজের বিরক্তি প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে। সঙ্গে জানিয়েছেন, সাংগঠনিকভাবে দল দুর্বল হলে কোনও নির্বাচনেই তাঁর পক্ষে কিছু করা সম্ভব হবে না। রাজ্য বিজেপির এক নেতার কথায়, “দুর্বল সংগঠন নিয়ে কোনদিনও নির্বাচনে ভালো ফল করা সম্ভব নয়। তা প্রমাণ করে দিয়েছে গত লোকসভা নির্বাচন। একটু একটু করে সংগঠন বাড়ায় পশ্চিমবঙ্গে ভালো ফল করেছে বিজেপি। মুকুলদা চাইছেন সংগঠনকে শক্তিশালী করতে। কারণ ২০২১ সালে সাংগঠনিক ভাবেই আমাদের মোকাবিলা করতে হবে তৃণমূলের সঙ্গে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের যত তাড়াতাড়ি হস্তক্ষেপ করেন ততই মঙ্গল।”

দিল্লির নেতাদের মারফত মুকুলের অাভ্যন্তরীণ ক্ষোভের কথা জানতে পেরেছেন অমিত শাহ, জেনেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সভাপতি জেপি নাডডাও। অাভ্যন্তরীণ ক্ষোভের কথা সংবাদমাধ্যমে না জানিয়ে মুকুল রায় তা দলীয় শীর্ষ নেতাদের জানানোয় বিষয়টি ভালো চোখে দেখেছেন কেন্দ্রীয় বিজেপির শীর্ষ নেতারা। সূত্রের খবর, সংগঠন নিয়ে মুকুলের ক্ষোভের কথা জানতে পেরে দিল্লি থেকে ফোনে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন অমিত শাহ। মনে করা হচ্ছে, আগামী জুন মাসে দিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গের সংগঠন নিয়ে মুকুল রায়ের সঙ্গে কথা বলবেন অমিত শাহ ও জেপি নাড্ডা।

Spread the love

Check Also

গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব চরমে, বিজেপির দিকে পা বাড়িয়ে রাজীব, ইঙ্গিতে বললেন অরূপ

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো। মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির দিকে পা বাড়িয়ে আছে? এমন একটি গুঞ্জন বেশ …

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের থাবা পূর্ব রেলে : আক্রান্ত শিয়ালদহ ডিআরএম অফিসের কর্মী

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো। করোনা ভাইরাসের (Coronavirus) সংক্রমনের থাবা ধরা পড়ল পূর্ব রেলে (Eastern Railway)। শনিবার …

করোনা মোকাবিলায় কলকাতায় বাড়ল কনটেইনমেন্ট জোনের সংখ্যা

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো। কলকাতা সহ রাজ্যে কনটেইনমেন্ট জোনের সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেল। কলকাতা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!