Breaking News
Home / TRENDING / বিভাজন আমরা করছি না, বিরোধীরা করছেন: জে পি নড্ডা

বিভাজন আমরা করছি না, বিরোধীরা করছেন: জে পি নড্ডা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে তিন দিন ধরে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারই পাল্টা হিসেবে আজ, সোমবার নাগরিকত্ব আইনের সমর্থনে অভিনন্দন মিছিল করে বিজেপি। এদিন বিজেপির এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন সর্বভারতীয় কার্যকরী সভাপতি জগৎপ্রকাশ নড্ডা।

মিছিল শুরু হয় সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে শেষ হয় শ্যামবাজারে। গত তিন ধরে মুখ্যমন্ত্রীর মিছিলে যে ভিড় হয়েছিল। এদিন বিজেপির মিছিল সেই ভিড়কেও ছাপিয়ে যায়। উদ্বাস্তু হিন্দুদের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের বহু মানুষ এদিনের মিছিলে পা মেলান। রাজ্য বিজেপি নেতাদের মধ্যে মিছিলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী, মুকুল রায়, রাহুল সিনহা, ভারতী ঘোষ, লকেট চট্টোপাধ্যায়, সায়ন্তন বসু সহ আরও অনেকে। মিছিল শেষে শ্যামবাজারের সভা থেকে দিলীপ ঘোষ বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগে বাংলার দিদি ছিলেন, এখন অনুপ্রবেশকারীদের দিদি হয়েছেন। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ভোট ব্যাংকের স্বার্থে অনুপ্রবেশকারীদের হয়ে কথা বলছেন।  

অন্যদিকে আজকের মিছিল দেখে বাংলায় পরিবর্তনের কথা বললেন বিজেপির কার্যকরী সভাপতি জে পি নড্ডা। তাঁর কথায়, এর আগেও আমি বাংলায় এসেছি। কিন্তু সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের পর আজকের মিছিল দেখে আমি  বাংলায় পরিবর্তনের আভাস পাচ্ছি। আমার মনে হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এটা ভাবছে। পাশাপাশি নাগরিকত্ব আইন নিয়ে তিনি বলেন, “বিরোধীরা ভুল বুঝিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। এই নাগরিকত্ব দেওয়ার, নেওয়ার নয়।” এই আইন নিয়ে বিভাজন করা হচ্ছে বলে বিরোধীরা যে অভিযোগ তুলেছেন। সে প্রসঙ্গে জে পি নড্ডা বলেন, “ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ হয়েছিল এ কথা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। তাই দেশভাগের সময়ই বিভাজন তৈরি হয়। তাছাড়া আমরা বিভাজন তৈরি করছি না, আমরা শুধুমাত্র সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দিচ্ছি।”

একইসঙ্গে এই মঞ্চ থেকে কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বিজেপির সর্বভারতীয় কার্যকরী সভাপতি বলেন, জওহরলাল নেহেরু ও লিয়াকত আলী খানের মধ্যে হওয়া চুক্তিতে বলা হয়, পাকিস্তানের সংখ্যালঘু মানুষদের আশ্রয় দেবে ভারত। অথচ আজ নিজেদের পূর্বসূরিদের কথা ভুলে গিয়েছেন রাহুল গাঁধী, সনিয়া গাঁধীরা। পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশে অত্যাচারিত হয়ে সংখ্যালঘুরা কোথায় যাবে বিরোধীরা সেকথা বলছে না। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে সংখ্যালঘু মুসলিমরা অত্যাচারিত হচ্ছেন না। উল্টে তাঁরা সম্মানের সঙ্গে এগিয়ে চলেছেন। মুসলিম পরিবারের কেউ রাষ্ট্রপতি হয়েছেন, কেউ উপরাষ্ট্রপতি হয়েছেন, কেউ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হয়েছেন। কারণ আমরা মুসলিমদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছি। আগে ভারতে মুসলিম ছিল ১১ শতাংশ, এখন তা বেড়ে হয়েছে ১৪ শতাংশ।  অথচ পাকিস্তানে দেখুন দেশভাগের পর মুসলিম ছিল ২৩ শতাংশ এখন কমে হয়েছে ৩ শতাংশ। কাবুলে ৫০ হাজার শিখ ছিল, এখন কমে হয়েছে ২ হাজার। এর থেকেই পরিষ্কার ওইসব দেশে হিন্দুরা অত্যাচারের স্বীকার হচ্ছেন। আমরা সেইসব অত্যাচারিত মানুষদের জন্য ভারতের দরজা খুলে দিয়েছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে এনে নড্ডা বলেন, মতুয়া সমাজের বড়মার কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশীর্বাদ নিতে গিয়েছিলেন। আজ সেই মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধিতা করছেন। 

Spread the love

Check Also

তবলিঘ-ই-জামাতের সদস্যরা কোনও অভব্যতা করছেন না চিকিৎসকদের সঙ্গে : এইমস

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো। তবলিঘ-ই-জামাতের (Tablig-E-Jamat) সদস্যরা কোনও রকম অভব্যতা করেননি চিকিৎসকদের সঙ্গে। বরঞ্চ সহযোগিতাই করছেন …

করোনা-লকডাউন পরিস্থিতির মধ্যেই কোন্নগরে শক্তিশালী বোমার আতঙ্ক

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো। সাতসকালে কোন্নগরে বোমাতঙ্ক। সোমবার রাতে কোন্নগরের ধর্মডাঙ্গায় বোমার মতো কিছু পরে থাকতে …

দেশীয় শিল্পের বিকাশ ঘটানোর সঠিক সময় এটাই :মোদী

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো। সারা বিশ্বে করোনার অর্থনৈতিক প্রভাব যে মারাত্মক পড়তে চলেছে সেই বিষয়ে আগেই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!