Breaking News
Home / TRENDING / বারবার মোদি পিঠ চাপড়াচ্ছেন মুকুলের, কিন্তু কেন?

বারবার মোদি পিঠ চাপড়াচ্ছেন মুকুলের, কিন্তু কেন?

ডম্বরুপানি উপাধ্যায়:

 

একটি দৃশ্যের উপর্যুপরি পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। দৃশ্যটি আপাত নিরীহ কিন্তু রাজ্য রাজনীতির ভবিষ্যতের পরিপ্রেক্ষিতে দৃশ্যটি গভীর ব্যঞ্জনাময়।
দৃশ্যটি হলো মুকুল রায়ের পিঠ চাপড়ে দিচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। রাজ্যে জনসভা করতে এলেই মোদি এই কাজটি করছেন। প্রশ্ন হলো কেন করছেন?

প্রথমত মোদি জানেন এবার পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা ভোটে বিজেপির পক্ষে কাজ করছে তিনটি ‘ম’। এক, মোদি নিজে , দুই, রাজ্যের মানুষ এবং তিন, অবশ্যই মুকুল। ঘরে বাইরে প্রবল বাধা বিপত্তি কাটিয়ে এই মুহুর্তে মুকুল যে পরিস্থিতি তৈরি করেছেন , তাতে এই রাজ্যে বিজেপির অত্যন্ত ভাল ফলাফল এখন দৃশ্যমান। আর এই অবস্থা তৈরি করার পিছনে মুকুলের অতি সুক্ষ, অতি সুচারু অবদানের বিষয়ে মোদি অবহিত। তৃণমূলের অভিজ্ঞ নেতারা মনে করছেন বাম ও কংগ্রেস ভোটের বিজেপিতে স্থানান্তর এবং তৃণমূলের নিজের ভোটের ক্ষয়। এই দুটি কাজই নিখুঁত ভাবে করে মোদির গলায় জয়মাল্য তুলে দেওয়ার কাজটি মুকুল প্রায় সেরে ফেলেছেন। মমতার প্রতি মানুষের ক্ষোভ, তৃণমূলের অন্দরের ক্ষোভ এবং বাম ও কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরিসরে দমবন্ধ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার আকুতি : এই সবকটি বিষয়কে পাশাপাশি রেখে মুকুল যে দান সাজিয়েছেন, তাতে কিস্তিমাত হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা।

২০০৯ বা ২০১১ তে বামেদের বিরুদ্ধে যেভাবে সব বিরোধী মঞ্চকে এক জায়গায় আনা হয়েছিল, এবারেও সেই কাজটিই করেছেন মুকুল। তৃণমূলের ভরসা এখন সংখ্যালঘু ভোট এবং বামেদের গতবারের প্রাপ্ত ভোট। তৃণমূল ভাবছে তোষন রাজনীতি ফসল তুলতে আর বামেরা নিজেদের ভোট ধরে রাখতে পারলে ভোট কাটাকাটির ফায়দা তুলতে।

মুকুল সে পথে আগেই কাঁটা বিছিয়ে রেখেছেন। মুসলিম ভোট নিয়ে তৃণমূল বা বলা ভাল মমতা শিবির যতটা আশাবাদী, সংখ্যালঘুরা শেষ পর্যন্ত তাদের অতটা খুশি করবেন কিনা তা নিয়ে তৃণমূলেরই অনেকের মনে সংশয় আছে। তার ওপর আর একটা কাণ্ডও এবারের ভোটে হয়েছে, মুসলিমদের  ভোট ব্যাঙ্ক করে রাখতে গিয়ে যে তোষন রাজনীতি মমতা করে এসেছেন তার পাল্টা হিসেবে নীরবে হিন্দু ভোট সংগঠিত হয়েছে।
মোটের ওপর মুকুল এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন যাতে করে পেশি শক্তি দিয়ে যতটুকু হয়, তার বাইরে জয়ের আশা করা তৃণমূলের পক্ষে অলীক হয়ে উঠেছে।
মোদির পিঠ চাপড়ানি এই কারনেই। এই কারনেই মুকুলের সঙ্গে এক মঞ্চে থাকলেই মোদি তাঁর সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে কাটাচ্ছেন। মুকুলের চেয়ে একশ শতাংশ ভাল হিন্দিতে কথা বলতে জানা কোনও নেতার সঙ্গে দু’একটি কথাতেই কাজ সেরে নিচ্ছেন।
মস্তিষ্ক চিনেছে মস্কিষ্ককে, মোদি চিনেছেন মুকুলকে। এমনই বলছে রাজনৈতিক মহল।

Spread the love

Check Also

নিজের মাতৃভাষা ছাড়াও আরও একটি ভারতীয় ভাষা সকলের শেখা উচিত : রাজনাথ

নিজস্ব প্রতিনিধি। মহাদেব শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতীক। দেশের প্রতিটি কোনায় তাঁর মন্দির এক এবং অখণ্ড ভারতের …

শোভনের পাল্টা ববিদাকে চাই হোডিং কলকাতায়

নিজস্ব প্রতিনিধি। শোভনের পাল্টা ববি ! শুক্রবার দক্ষিণ কলকাতা জুড়ে একটি হোডিং চোখে পড়ে। যেখানে …

পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভায় প্রিয়াঙ্কা গাঁধী ? জল্পনা কংগ্রেসে

নিজস্ব প্রতিনিধি। পশ্চিমবঙ্গ থেকেই কী রাজ্যসভায় যাবেন প্রিয়াঙ্কা গাঁধী ? তেমনি জল্পনা উস্কে দিয়ে গেলেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *